Home Bangla Recent ত্রিমুখী সংকটে পোশাক শিল্প উদ্যোক্তারা

ত্রিমুখী সংকটে পোশাক শিল্প উদ্যোক্তারা

সাম্প্রতিক সময়ে ত্রিমুখী সঙ্কটে পেশাক খাতের উদ্যোক্তারা। এর মধ্যে একটি হলো- ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্রেতাদের সমন্বয়ে গঠিত কারখানা পরিদর্শন জোট অ্যাকর্ড এবং আমেরিকার ক্রেতাদের সমন্বয়ে গঠিত কারখানা পরিদর্শন জোট অ্যালায়েন্সের বাংলাদেশের কারখানা পরিদর্শন কাযক্রমের মেয়াদ বাড়ানো। অন্যটি- বন্দরে জাহাজীকরণ জটিলতায় রপ্তানি কন্টেইনার না নিয়েই জাহাজের বন্দর ছেড়ে যাওয়া, যা ইতিহাসে কখনোই ঘটেনি। তবে অ্যালায়েন্স মেয়াদ  বাড়াতে চায় না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আগামী বছর তাদের কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর পরিদর্শনের মেয়াদ আর বাড়াতে চায় না বলে ঢাকায় অ্যালায়েন্স সূত্রে জানা গেছে। তারা চায়, পরিদর্শনের চলমান ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন থাকুক। এ জন্য একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী পরিদর্শন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলে ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে কার্যক্রম হস্তান্তর করতে চায়। অপরদিকে ইউরোপের ক্রেতাদের সমন্বয়ে গঠিত কারখানা পরিদর্শন জোট অ্যাকর্ড আগামী বছর শেষে আরো তিন বছর তাদের কার্যক্রমের মেয়াদ বাড়ানোর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে কারখানা মালিকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইতিমধ্যেই বাণিজ্যমন্ত্রী অ্যাকর্ড নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন। তবে এখন সবার দৃষ্টি অ্যালায়েন্সের সিদ্ধান্তের দিকে। এখন পর্যন্ত অ্যালায়েন্স মেয়াদ বাড়াবে না বলে জানা গেছে। সেদিক থেকে অ্যালায়েন্সের বিষয়ে স্বস্তিতে রয়েছেন পোশাক মালিকরা।

পোশাক ব্যবসায়ীদের দাবি, বাংলাদেশের পোশাক খাতের ‘খবরদারি’তে নিয়োজিত দুই প্রতিষ্ঠান অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের বিড়ম্বনায় দেশের তৈরি পোশাক শিল্প ধ্বংসের পথে যাচ্ছে। তাদের মতে, দেশের পোশাক শিল্প বর্তমানে যে সংকটের মধ্যে আছে এর জন্য অন্যতম দায়ী অ্যাকর্ড-অ্যালাইন্স। তাদের রানা প্লাজা ধসের পর দেশে আনা হয়েছিল কেবল ত্রুটিগুলো দেখার জন্য। অথচ তারা এখানে অযাচিতভাবে খবরদারি করছে বলে দাবি করেন ব্যবসায়ীরা।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সকে দেশে ৫ বছরের জন্য নিবন্ধন দেয়। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা দুর্ঘটনা পরবর্তী সংকট কাটাতে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতার ভিত্তিতে এ অনুমোদন দেয়া হয়। যার মেয়াদ ২০১৮ সালের ৩১শে মে শেষ হবে। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ইউরোপীয় পার্লামেন্ট (ইপি) অ্যাকর্ডকে বাংলাদেশে আরও তিন বছর কর্মকাণ্ড চালানোর অনুমোদন দেয়। অ্যালায়েন্সও একই পথে হাঁটছে।

বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, রানা প্লাজা ধসে অ্যাকর্ড অ্যালায়েন্স গঠনের পরে শত কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। কারখানা নিরাপত্তায় আমরা অনেক উন্নতি করার পরও আমাদের উন্নতি নেই। অথচ বিশ্বের গ্রিন কারখানার তালিকায় প্রথম ১০টির মধ্যে ৭টি বাংলাদেশে। আরও ৬৬টি পাইপলাইনে আছে। আমাদের থেকে চীন, ভারত, ভিয়েতনাম অনেক খারাপ থাকার পরেও তারা আমাদের চেয়ে বেশি নম্বর পায়। তিনি বলেন, আমাদের দেশের পোশাক শিল্প নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। কিছু এনজিও এবং শ্রমিক নেতা নামধারীরা বিদেশে গিয়ে আমাদের শিল্পের বদনাম করছেন। তারা এই শিল্পকে শেষ করতে চান।

বন্দর সমস্যা নিয়ে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, সময়মতো আমদানিকৃত মালামাল বন্দর থেকে হাতে পাচ্ছি না। ফলে নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি করা যাচ্ছে না। বন্দরে পণ্য ৩-৪ দিন পড়ে থাকে। এসব কারণে পোশাক খাতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি গত দশ বছরে ১৩ শতাংশ থেকে কমে ০.২০ শতাংশে নেমে এসেছে। তিনি বলেন, দু’-একজন ব্যবসায়ী মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য খালাস করার কারণে হয়রানি করা হচ্ছে ৯৯ শতাংশ ব্যবসায়ীকে। অপরাধ করলে শাস্তি দিন। এতে কোনোদিন আপত্তি করিনি। কিন্তু ভালো ব্যবসায়ীদের বাধা দেবেন, তা হতে পারে না। তিনি বলেন, পোশাক খাতে ৫০ বিলিয়ন ডলার রফতানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। কিন্তু গত দু’বছরে ২৮ বিলিয়নের বেশি হয়নি। বন্দরের অবস্থা এভাবে চলতে থাকলে দেশ এগিয়ে যাবে না।

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, টানা আড়াই মাসের বেশি সময় ধরে জাহাজজট চলমান থাকার পরিস্থিতির সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে জাহাজীকরণ জটিলতা। রপ্তানি কন্টেইনার না নিয়েই জাহাজের বন্দর ছেড়ে যাওয়ার ঘটনা, যা ইতিমধ্যে কখনোই ঘটেনি। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিদেশি ক্রেতারা সময়মতো পোশাক পাবে না। আর এর মাশুল দিতে হবে আমাদের রপ্তানিকারকদের। পরিস্থিতি উত্তরণে কনটেইনার ইয়ার্ড সমপ্রসারণ জরুরি বলেও মনে করছে সংগঠনটি।

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। রপ্তানি প্রবৃদ্ধি নেই। ব্যবসা করতে পারছি না। অ্যাকর্ড অ্যালায়েন্সের কারণে গত দু’বছরে ১২০০ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বিদেশি বায়াররা বন্দরের অব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আপত্তি জানাচ্ছেন।

বিজিএমইএ’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারুক হাসান বলেন, অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্স দেশে থাকলে আমাদের দেশের কারখানা মালিকদের খরচ বাড়বে। আর তাদের থাকায় আমাদের বাড়তি কোনো লাভ নেই। কারণ তারা যা কার্যক্রম করেছে তা আমাদের দেশের ইঞ্জিনিয়াররা শিখে ফেলেছে। তাই তাদের আর দরকার নেই। তারা থকালেই আমাদের খরচ বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here