Home Bangla Recent যুক্তরাষ্ট্রে রফতানিতে খরা কাটছে

যুক্তরাষ্ট্রে রফতানিতে খরা কাটছে

তৈরি পোশাক রফতানির প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় দুই বছর ধরে চলতে থাকা খরা কাটছে। চলতি অর্থবছরের ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) আগের একই সময়ের তুলনায় প্রধান পণ্য তৈরি পোশাকের রফতানি বেড়েছে প্রায় ২ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ সময় রফতানি কম ছিল ১০ শতাংশের কাছাকাছি। অন্যান্য পণ্যের রফতানিও কিছুটা বেড়েছে।

চার বছর আগে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা বা জিএসপি স্থগিতের প্রথম দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি কমেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অবাধ বাণিজ্যবিষয়ক ট্রান্সপ্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) চুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশের চেয়ে ভিয়েতনামের দিকে বেশি মনোযোগী হয়ে ওঠেন ক্রেতারা। অনেক মার্কিন ক্রেতা দেশটিতে নতুন করে বিনিয়োগও শুরু করেন। কিন্তু গত বছর নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টিপিপি থেকে সরে আসেন। এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানি আবার বাড়তে শুরু করেছে। উদ্যোক্তারা মনে করেন, এ ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং বিজিএমইএ থেকে সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাকের রফতানি কমে ৫ শতাংশ। পরের অর্থবছরের একই সময়ে বাড়ে ১৫ শতাংশের মতো। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি কমে যায় ৯ শতাংশেরও বেশি। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেও রফতানি কমে যায়। তবে শেষ তিন মাসে রফতানি বেড়েছে। সব মিলিয়ে গত ছয় মাসে পোশাক রফতানি বেড়েছে প্রায় ২ শতাংশ।

আলোচ্য সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি থেকে আসা ২৯০ কোটি ডলারের মধ্যে ২৬০ কোটি ডলারই এসেছে তৈরি পোশাক থেকে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ২৫৬ কোটি ডলারের কিছু কম। যুক্তরাষ্ট্রে নিটের তুলনায় ওভেনের চাহিদা বেশি। এ সময় ওভেন রফতানি হয়েছে ১৮৮ কোটি ডলার। বাকি ৭২ ডলার এসেছে নিট রফতানি থেকে। যদিও প্রবৃদ্ধির হিসাবে নিটের রফতানি বেড়েছে ১০ শতাংশ। অন্যদিকে ওভেনের আয় ১ শতাংশ কম হয়েছে। গত

অর্থবছরের একই সময়ে সামগ্রিক রফতানির পরিমাণ ছিল ২৮৫ কোটি ডলার।

জানতে চাইলে তৈরি পোশাক উৎপাদন এবং রফতানিকারক ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ফারুক হাসান সমকালকে বলেন, টিপিপির প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় অনেক ক্রেতা আগেভাগেই ভিয়েতনামের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক শুরু করে দেন। সে কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ক্রেতা যারা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ থেকে পোশাক নিতেন তারা ভিয়েতনামের দিকে ঝোঁকেন।

চুক্তি বাতিল হওয়ায় ক্রমেই ক্রেতারা আবার  বাংলাদেশে আসছেন।

এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান সমকালকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে গতি আসায় অন্যান্য স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মতো বাংলাদেশের রফতানি বেড়েছে। সানেমের গবেষণা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত বিশ্বে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশ বাড়লে এলডিসির রফতানি বাড়ে ৪ শতাংশ। বাংলাদেশ এলডিসিতে নেতৃত্বশীল অবস্থানে আছে এবং তৈরি পোশাকের দ্বিতীয় প্রধান রফতানিকারক দেশ। সে হিসেবে বাংলাদেশের রফতানি বেশি পরিমাণে হয়েছে। তবে যে কারণেই হোক যুক্তরাষ্ট্রে রফতানিতে মন্দা কাটিয়ে ওঠা নতুন বছরে বাংলাদেশের জন্য নিঃসন্দেহে সুখবর। এর ধারাবাহিকতা রক্ষা এখন বড় কথা।

একক বড় বাজার হিসেবে মোট রফতানি আয়ের ২১ শতাংশ আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাকের বাইরে উল্লেখযোগ্য পণ্যের মধ্যে রয়েছে চামড়া ও চামড়া পণ্য, চিংড়ি, প্লাস্টিক, তামাক, সিরামিক, ফার্নিচার, সবজি, লবণ, পাথর, চুনা, সিমেন্ট ইত্যাদি। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে জিএসপি স্থগিত হওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগে এসব পণ্য শুল্ক্কমুক্ত সুবিধায় রফতানি হতো। তবে প্রধান পণ্য তৈরি পোশাক কখনোই জিএসপি সুবিধার আওতায় ছিল না। গড়ে ১৬ শতাংশ শুল্ক্ক দিয়ে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক আমদানি করেন সে দেশের ক্রেতারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here