Home Bangla Recent জিএসপি সুবিধা ১২ বছর চালু রাখার দাবি বিকেএমইএর

জিএসপি সুবিধা ১২ বছর চালু রাখার দাবি বিকেএমইএর

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) এভরিথিং বাট আর্মস (ইবিএ) নীতির আওতায় বাণিজ্যে অগ্রাধিকারমূলক জিএসপি সুবিধা পায় বাংলাদেশ। এ সুবিধার মাধ্যমে ইইউর বাজারে বিনাশুল্কে পণ্য রফতানি করেন বাংলাদেশের পোশাক রফতানিকারকরা। দেশের নিট খাতের শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ আরো ১২ বছর এ সুবিধা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছে। গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিকেএমইএ কার্যালয়ে এক দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত রেঁজে তিরিঙ্কের কাছে এ দাবি জানায় সংগঠনটি।

‘স্ট্রেনদেনিং বাই-ল্যাটারাল ট্রেড রিলেশনশিপ বিটুইন বাংলাদেশ অ্যান্ড ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন’ শীর্ষক গতকালের আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিকেএমইএর প্রথম সহসভাপতি মনসুর আহমেদ। সভায় আধুনিক নিট কারখানা, জিএসপি ইস্যু, আইএলও কোর কনভেনশন, সাসটেইনেবিলিটি কম্প্যাক্ট, গ্রিন ফ্যাক্টরি, কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ, কমপ্লায়েন্স ইস্যু ও রানা প্লাজা দুর্ঘটনা-পরবর্তী সময়ে ইতিবাচক ইমেজ তৈরির লক্ষ্যে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিংয়ে অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দেন ইইউ রাষ্ট্রদূত রেঁজে তিরিঙ্ক।

বিকেএমইএর পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হলে ২০২৪ সালের পর আর ইবিএ নীতির আওতায় জিএসপি সুবিধা পাবে না। মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বাংলাদেশ জিএসপি প্লাস (মোট পণ্যের দুই-তৃতীয়াংশ শুল্ক সুবিধা) সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবে। কিন্তু এ সুবিধা পেতে গেলে বাংলাদেশকে আইএলওর ২৭টি আন্তর্জাতিক কনভেনশন কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে, যা অনেক কষ্টসাধ্য। তাই জিএসপি সুবিধা আগামী ১২ বছর অব্যাহত রাখতে ইইউ রাষ্ট্রদূতের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বিকেএমইএ।

আলোচনায় বিকেএমইএর উপস্থাপিত অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে ছিল— মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের পর্যায়ে ইইউর সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন, ইইউর সহযোগিতায় বায়ার ও কনজিউমারদের মধ্যে আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি, অশুল্ক বাধা দূর করার জন্য ইইউর সহযোগিতা ও ইউরোপের প্রতিটি দেশে নিট এক্সপো আয়োজনে সহযোগিতা। এছাড়া ব্যবসায়ীদের কম সময়ের মধ্যে সহজে ভিসা প্রদানে ইইউর সহযোগিতা চেয়েছে বিকেএমইএ। পাশাপাশি বিকেএমইএর তত্ত্বাবধানে ২০২১ সালের মধ্যে কমপক্ষে ২০০টি কারখানাকে গ্রিন ইন্ডাস্ট্রিতে রূপান্তরে ইইউর আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা প্রদানেরও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, ইইউ অতীতের মতো বাংলাদেশের নিট খাতের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। বাংলাদেশের নিট কারখানাগুলো কমপ্লায়েন্স বাস্তবায়নের মাধ্যমে যে অবস্থায় উন্নীত হয়েছে, তা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। তিনি বাংলাদেশের ইমেজকে বহির্বিশ্বে, বিশেষ করে ইউরোপীয় অঞ্চলে রিব্র্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here