Home Bangla Recent পোশাক খাতে গতি আনতে বন্দরের উন্নয়ন জরুরি

পোশাক খাতে গতি আনতে বন্দরের উন্নয়ন জরুরি

সিবাই আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী নেতারা

দেশের প্রধান রফতানি পণ্য তৈরি পোশাক খাতকে আরো গতিশীল করতে বিমান ও সমুদ্রবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে। বন্দরগুলোয় নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে এ শিল্প তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারছে না।

গতকাল রাজধানীর গুলশানের হোটেল আমারিতে ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স ফর বাংলাদেশ অ্যাপারেল ইন্ডাস্ট্রিজ (সিবাই)’ আয়োজিত ব্র্যান্ড ফোরাম মিটিংয়ে তৈরি পোশাক শিল্প খাতের নানা প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরতে গিয়ে বন্দর সমস্যার কথা বলেন ব্যবসায়ী নেতারা।

এফবিসিসিআই সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, এ খাতকে (তৈরি পোশাক) এগিয়ে নিয়ে যেতে আমাদের বেশকিছু প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আমাদের বন্দর ও এনার্জি (জ্বালানি) এখনো প্রস্তুত নয়। বর্তমানে আমরা বন্দর সমস্যা নিয়ে লড়ে যাচ্ছি, আমাদের বন্দরের ৩৯ হাজার কনটেইনার ধারণক্ষমতাও নেই। এতে আমাদের উত্পাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পে বিশ্বে বাংলাদেশের মার্কেট শেয়ার ৬ দশমিক ৩ শতাংশ, যেখানে ৩৬-৩৭ শতাংশ চীনের। তিনি বলেন, আমি মনে করি, আমরা চীনকে অতিক্রম করার সক্ষমতা রাখি। কিন্তু এর আগে আমাদের সমুদ্র ও বিমানবন্দরের অবকাঠামো সমস্যা দূর করতে হবে। দেশের রফতানি বাণিজ্যের কেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দর আধুনিকায়নের কথা অনেক দিন ধরেই বলে আসছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া বিদেশী ক্রেতারা তৈরি পোশাকের মান অনুযায়ী দাম দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়নের নানা পদক্ষেপ নেয়ার কথা বললেও সমস্যার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, বন্দরে যেভাবে সক্ষমতা বৃদ্ধি হওয়ার কথা ছিল, আমরা সেভাবে পারিনি। শতভাগ হয়তো পারিনি, তবে প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। এছাড়া সমস্যা সমাধানে পটুয়াখালীতে আরেকটি সমুদ্রবন্দর নির্মিতও হয়েছে।

তৈরি পোশাক খাতের বিকাশ ঘটাতে সারা বাংলাদেশে ‘একটি নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম’ চালু এবং এ খাতের ভবিষ্যত্ নিয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা চালানোর পরামর্শ দিয়েছে পোশাক খাতের শ্রম পরিস্থিতি ও পণ্যের মানোন্নয়নে গঠিত প্রতিষ্ঠান সিবাই।

সিবাই সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, সারা বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য এক কারিকুলামের প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করতে হবে, যাতে শ্রমিকদের মানোন্নয়ন করা যায় এবং একই মানের শ্রমিক তৈরি করা যায়। এছাড়া সব শ্রমিককে একটি সার্টিফিকেট দেয়া হবে, যাতে তাদের মান নিয়ে কোনো সংশয় না থাকে।

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি গবেষণায় জোর দিয়ে বলেন, এ খাতে ভবিষ্যত্ আমাদের অজানা, ব্যবসায় ভবিষ্যতে কী হতে যাচ্ছে তা আগে থেকে বোঝার জন্য গবেষণা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে উদ্ভূত যেকোনো সমস্যা ও পরিস্থিতি আমরা মোকাবেলা করতে পারি।

এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, পোশাক কারখানার মিড লেভেল শ্রমিকদের জন্য কোনো প্রশিক্ষণ এর আগে ছিল না, তাদের প্রশিক্ষিত করছে সিবাই। এছাড়া এ প্রতিষ্ঠান দিয়ে আমরা বিদেশী কোম্পানিদের আকর্ষণ করতে চাই।

বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সুইডেন, আইএলও, আন্তর্জাতিক ফ্যাশন প্রতিষ্ঠান এইচঅ্যান্ডএম, বিজিএমইএসহ পোশাক খাতসংশ্লিষ্ট অন্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে ২০১৪ সালে যাত্রা করে সিবাই। শ্রমিক প্রশিক্ষণ ও পোশাক খাত নিয়ে গবেষণা এ প্রতিষ্ঠানের অন্যতম কর্মসূচি।

২০১৬ সালের জুলাইতে ঢাকার আশুলিয়ায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের কাজ শুরু করে সিবাই। প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের প্রশিক্ষণ নিয়ে ৫ হাজার ৭৬৩ জন শ্রমিক বিভিন্ন কারখানায় কাজে যোগ দিয়েছে।

এছাড়া ইউসেপ, মুসলিম এইড এবং বাংলাদেশ কোরিয়া টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের পাশাপাশি এখন পর্যন্ত ১০টি পোশাক কারখানায় এন্টারপ্রাইজ বেজড ট্রেইনিং বা ইবিটি সেন্টার স্থাপন করেছে সিবাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here