Home বাংলা নিউজ বৈশ্বিক তুলা উৎপাদন বাড়বে: ২০১৬-১৭ মৌসুম

বৈশ্বিক তুলা উৎপাদন বাড়বে: ২০১৬-১৭ মৌসুম

cotton

২০১৬-১৭ মৌসুমে বৈশ্বিক তুলা আবাদে জমির পরিমাণ ১ শতাংশ বেড়ে ৩ কোটি ১০ লাখ হেক্টরে দাঁড়াতে পারে। এ সময়ে হেক্টরপ্রতি জমিতে পণ্যটি উৎপাদনের গড় পূর্বাভাস ধরা হয়েছে ৭৩৫ কেজি, যা আগের চেয়ে ৫ শতাংশ বেশি। সে হিসাবে আগামী মৌসুমে বৈশ্বিক তুলা উৎপাদন ৫ শতাংশ বেড়ে ২ কোটি ৩০ লাখ টনে পৌঁছার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল কটন অ্যাডভাইজরি কমিটি (আইসিএসি) ২০১৬-১৭ মৌসুমে বৈশ্বিক তুলার চাহিদার পূর্বাভাস দিয়েছে ২ কোটি ৩৬ লাখ টন। প্রতিদ্বন্দ্বী তন্তুর নিম্নমুখী দামের কারণে তুলার প্রতি ক্রেতাদের আকর্ষণ কমেছে। অন্যদিকে বৈশ্বিক তুলা লেনদেনের পরিমাণ ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৭৪ লাখ টনে।

বৈশ্বিক তুলার অন্যতম ক্রেতা দেশ চীন। আগামী মৌসুমে দেশটিতে পণ্যটির আমদানি ৮ শতাংশ কমে ৯ লাখ ৪৭ হাজার টনে পৌঁছাতে পারে। চীনা সরকার অভ্যন্তরীণ তুলার মজুদ কমাতে পণ্যটি আমদানি সীমিতকরণের ওপর বিধিনিষেধ অব্যাহত রেখেছে। আগামী মৌসুম শেষে বিশ্বব্যাপী মজুদ হতে পারে ২ কোটি ৪ লাখ টন তুলা। এর পরিমাণ আগের দেয়া পূর্বাভাসের চেয়ে ৫ শতাংশ কম। উৎপাদনের তুলনায় মিলগুলোয় তুলার ব্যবহার ৯ লাখ ৩০ হাজার টন বেশি হবে।

২০১৫-১৬ মৌসুমে বিশ্বব্যাপী ২ কোটি ১৭ লাখ টন তুলা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এর পরিমাণ আগের মৌসুমের চেয়ে ১৭ শতাংশ কম। চলতি মৌসুমে বিশ্বের ৩ কোটি ১১ লাখ হেক্টর জমিতে তুলার আবাদ হয়েছে, যা গতবারের চেয়ে ৯ শতাংশ কম। চলতি মৌসুমে হেক্টরপ্রতি জমিতে গড়ে ৬৯৯ কেজি তুলা উৎপাদন হতে পারে, যা ২০১৪-১৫ মৌসুমের তুলনায় ৯ শতাংশ কম। অন্যদিকে ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিস ২০১৬-১৭ বিপণন বর্ষে বৈশ্বিক তুলার ব্যবহার বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। আগামী বিপণন বর্ষে বিশ্বব্যাপী ব্যবহার হতে পারে ১ কোটি ১০ লাখ বেল তুলা। এর পরিমাণ ২০১৪-১৫ বিপণন বর্ষের সমপরিমাণ। যদিও ২০১৫-১৬ মৌসুমে তুলার বৈশ্বিক ব্যবহার সামান্য কমেছে।

পণ্যবাজার-বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ভার্জিনিয়া ফার্ম ব্যুরো ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট স্পেন্সার নেয়াল বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নের প্রতিফলন হিসাবে তুলার ব্যবহার বৃদ্ধি ভালো হয়েছে। যদিও এটা ভালো সংবাদ, এর পরও ভার্জিনিয়ার উৎপাদকরা পণ্যটির দামে বিরাট পরিবর্তন দেখছে না। অপ্রত্যাশিতভাবে গত কয়েক বছর যাবত্ তুলা শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিম্নমুখী বাজারদরের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তুলার অতিরিক্ত সরবরাহসহ নানা কারণে পণ্যটির দাম কমেছে।

বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিমিত প্রবৃদ্ধি এবং অপেক্ষাকৃত তুলার নিম্নমুখী দামের কারণে অনেক দেশের মিলগুলোয় তুলার ব্যবহার বাড়ছে। চীন, ভারত ও পাকিস্তান বিশ্বের অন্যতম তিন তুলা ব্যবহারকারী দেশ। ২০১৫-১৬ মৌসুমে বৈশ্বিক মোট তুলার ৬২ শতাংশ এ তিন দেশের মিলগুলোয় যৌথভাবে ব্যবহার হয়েছে। ইউএসডিএ ২০১৬-১৭ মৌসুমে বিশ্বব্যাপী ১০ কোটি ৪৪ লাখ বেল তুলা উৎপাদনের পূর্বাভাস দিয়েছে। এর পরিমাণ চলতি মৌসুমের চেয়ে ১৬ শতাংশ বেশি। ঝড়ো আবহাওয়া এবং পোঁকামাকড়ের আক্রমণের কারণে চলতি মৌসুমে তুলা উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।