Home Bangla Recent পোশাক কারখানায় উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারেন নারী সুপারভাইজার

পোশাক কারখানায় উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারেন নারী সুপারভাইজার

পোশাক কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের ৬০ শতাংশের বেশি নারী। তাদের উৎপাদন কার্যক্রম তত্ত্বাবধানে নিয়োজিত কর্মকর্তা বা সুপারভাইজার বেশির ভাগ সময়ই হন পুরুষ। অথচ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারী শ্রমিকের দক্ষতা বাড়িয়ে তাকে সুপারভাইজারের ভূমিকায় নিয়ে আসা সম্ভব। এর মাধ্যমে কারখানার উৎপাদনশীলতাও বাড়ানো যেতে পারে। গতকাল এক সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) উদ্যোগে সম্প্রতি ২৮টি পোশাক কারখানার কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এ কর্মসূচিতে সহায়তা করেছে জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয়। সহযোগিতায় ছিল বেটার ওয়ার্ক বাংলাদেশ। এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অতিরিক্ত অর্থায়ন-সহযোগিতা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক পরিচালিত লেটস ওয়ার্ক মাল্টিডোনার ট্রাস্ট ফান্ড। কর্মসূচিটির মূল্যায়ন শেষে গতকাল ‘কাটিং থ্রু দ্য ক্লথ সিলিং’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি।

প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া কারখানাগুলো হলো— আধুনিক পোশাক শিল্প, একেএইচ নিটিং অ্যান্ড ডায়িং, অনন্ত গার্মেন্টস, আরাবি ফ্যাশনস, বার্ড আরএনআর ফ্যাশন, বার্ড ফাডরেক্স, কলাম্বিয়া অ্যাপারেলস, কর্টজ অ্যাপারেল, ক্রিসেন্ট ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন, এসক্যোয়ার নিট কমপোজিট, এসেনশিয়াল ক্লথিং, এসেস ফ্যাশন, ফকির ফ্যাশন, জেনেসিস ডেনিম, ইন্টারস্টফ অ্যাপারেল, জিকন গার্মেন্টস, জিন্নাত নিটওয়্যার, নিট এশিয়া, রাকুফ অ্যাপারেল ওয়াশিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, সাফা সোয়েটার, শামস স্টাইলিং, সিনহা নিটওয়্যার, সাউথইস্ট টেক্সটাইল, স্প্যারো অ্যাপারেল, স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ, স্টার্লিং স্টাইল, দ্যাটস ইট গার্মেন্টস ও ভিনটেজ গার্মেন্টস।

‘কাজের উন্নতি ও উপাদনশীলতা’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অধীনে দক্ষ সুপারভাইজার হতে প্রয়োজনীয় নেতৃত্ব প্রদান ও যোগাযোগের দক্ষতা নিয়ে চারদিনের ‘সফট স্কিল ট্রেনিং’ ও কারিগরি দক্ষতা নিয়ে পাঁচদিনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এরপর প্রশিক্ষণার্থীরা আট সপ্তাহে হাতে-কলমে একজন অভিজ্ঞ সুপারভাইজারের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণকালীন শিক্ষার ব্যবহারিক প্রয়োগ ঘটান। এটি তাদের সুপারভাইজারের ভূমিকায় উত্তীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রার্থীদের পাশাপাশি পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রার্থীর দক্ষতা ও মনোভাবের মূল্যায়ন-সংক্রান্ত বিষয়ে উচ্চ ও মাঝারি পর্যায়ের ব্যবস্থাপকদেরও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ২০টি সুইং লাইনের মধ্যে গড়ে ১৯টিতে সুপারভাইজার হিসেবে পুরুষ কাজ করছেন। অথচ এক্ষেত্রে প্রডাকশন লাইনে কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ১৪৪ জন নারী প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ৯২ জনকেই এ কর্মসূচি শেষ হওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পদোন্নতির সুযোগ দেয়া হয়। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ নারী এ সুযোগ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী কারখানাগুলোয় নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা ৫ থেকে ১২ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, যেসব কারখানায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারী সুপারভাইজার রয়েছেন, সেসব কারখানায় গড় উৎপাদনশীলতা ৫ শতাংশ বেড়েছে এবং প্রডাকশন লাইনে অনুপস্থিতির সংখ্যা কমেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৈরি পোশাক শিল্পে নারী সুইং অপারেটরদের প্রশিক্ষণ প্রদান পণ্যের উৎপাদন তত্ত্বাবধানের কাজে নারীদের ভূমিকা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে, যা এ খাতে নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের অনুপস্থিতি কমিয়ে আনার মাধ্যমে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি কারখানার সুইং লাইনের উৎপাদনশীলতাও বাড়াবে।

এ বিষয়ে আইএফসির বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের কান্ট্রি ম্যানেজার ওয়েন্ডি ওয়ার্নার বলেন, গবেষণা প্রতিবেদন থেকে দেখা গেছে, নারীদের এ প্রশিক্ষণ প্রডাকশন লাইনের কর্মদক্ষতা বাড়িয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি যেসব কারখানায় নারীদের পদোন্নতি দেয়া হয়েছিল, সেসব কারখানার প্রবৃদ্ধি ও কারখানাগুলোর নারী সুপারভাইজারদের উন্নতিতে এ প্রশিক্ষণ ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।

আইএফসির এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের একজন পপি আক্তার। প্রশিক্ষণের পর তিনি অপারেটর থেকে পদোন্নতি পেয়ে সুইং লাইন সুপারভাইজার হন। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের বিষয়ে পপি আক্তার বলেন, এখান থেকে আমি কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয়, কীভাবে পেশাদারিত্বের সঙ্গে আচরণ করতে হয়, কীভাবে কাজের ধরনের হিসাব রাখতে হয়, পাশাপাশি কীভাবে উৎপাদন ও দক্ষতার সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কাজ করতে হয়, তা শিখেছি। এ প্রশিক্ষণ আমার ক্যারিয়ারে বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে।

প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ফারুক হাসান বলেন, কাজের ব্যস্ততার কারণে পোশাক কারখানাগুলোয় নিজ উদ্যোগে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করা কঠিন হয়ে পড়ে। আইএফসি যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা অবশ্যই ইতিবাচক। এ ধরনের কর্মসূচি চালু রাখতে হবে এবং এর আওতা বাড়াতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here