Home Bangla Recent পাটের গৌরব পুনরুদ্ধারে ব্যাপক সংস্কার

পাটের গৌরব পুনরুদ্ধারে ব্যাপক সংস্কার

নকশি, কারু ও তাঁত শিল্পীদের দারিদ্র্য বিমোচন এবং জীবন-মান উন্নয়নে আগামী বাজেটে অগ্রাধিকার পাচ্ছে ‘শেখ হাসিনা নকশি পল্লী’ প্রকল্প। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব বাজেটে এ প্রকল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

এর বাস্তবায়নের জন্য জমি অধিগ্রহণ ও ভূমি উন্নয়ন কাজ দ্রুত নিষ্পত্তি করতে মন্ত্রণালয় উন্নয়ন খাতে ৭০০ কোটি টাকাসহ মোট ১ হাজার ২৮১ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে। সম্প্রতি এ বরাদ্দ চেয়ে অর্থ সচিবকে আধা সরকারি (ডিও) পত্র দিয়েছে বস্ত্র ও পাট সচিব। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

আসন্ন বাজেটে পাট খাত উন্নয়নে মধ্যমেয়াদি সংস্কারের কথা বলা হবে। এই সংস্কারের মধ্যে রয়েছে পাটকল কর্পোরেশনের আওতাধীন ৩টি মিল সুষমকরণ, আধুনিকায়ন, পুনর্বাসন ও বর্ধিতকরণ। ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৪ কোটি টাকা।

এছাড়া ১২৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে পাট খাত থেকে ভিসকোস উৎপাদন প্লান্ট প্রকল্পে নেয়া হবে। সংস্কারের আওতায় ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এগুলো হচ্ছে করিম জুট মিলস ও দৌলতপুর জুট মিলসে ফেল্ট কারখানা স্থাপন এবং কেএফডি মিলসের বহুমুখী ইউনিটের উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন কার্যক্রম।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, অর্থনীতিতে পাট খাতের আগের অবস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে। এ খাতে প্রয়োজনে ভর্তুকি দেয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মোতাবেক পাট খাতকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ বাজেটে থাকবে। এ খাতে ব্যাংক ঋণের সুদের হারও কমানো হবে বলে তিনি জানান।

বস্ত্র ও পাট সচিব মো. মিজানুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী বস্ত্র ও পাট খাতকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। এ খাতের দ্রুত উন্নয়নের নির্দেশ দিয়েছেন। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শেখ হাসিনা নকশি পল্লী প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এজন্য আগামী বাজেটে উন্নয়ন খাতের সিলিং ৭০০ কোটি টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রাথমিক সিলিং নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৮২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এর মধ্যে উন্নয়ন ব্যয় হচ্ছে ৫৮১ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মতে, অর্থ বিভাগ থেকে বরাদ্দ ব্যয়ের সিলিং দিয়ে এ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়নের জন্য আগামী অর্থবছরে উন্নয়ন খাতে ৯৮১ কোটি টাকা প্রয়োজন। উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য এর আগেও অর্থ বিভাগকে একটি পত্র দেয়া হয়েছে।

কিন্তু অর্থ বিভাগ পত্র পাওয়ার পর দ্বিতীয় দফায় ১৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ বাড়িয়ে উন্নয়ন ব্যয় ৬০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে। এতেও উন্নয়ন কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না। ফলে উন্নয়ন ব্যয় ৬০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করার সুপারিশ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাট খাতকে আগের অবস্থায় নেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এজন্য সব ক্ষেত্রে পাট খাতকে বেশি অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। এরইমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আসন্ন বাজেটে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় তাদের পরিকল্পনাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

তবে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে শেখ হাসিনা নকশি পল্লী প্রকল্পকে। এ প্রকল্পটি নেয়া হয়েছে মূলত নকশি ও তাঁত শিল্পীদের দারিদ্র্য বিমোচন, জীবনযাত্রা ও উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান উন্নয়নের জন্য। এ লক্ষ্যে সার্ভিস সেন্টার ও ডিজাইন ডেভেলপমেন্ট সেন্টার স্থাপন করা হবে। ১২ মার্চ একনেকে এ প্রকল্পটি পাস হয়েছে।

এটি স্থাপন করা হবে জামালপুরে। ৭২২ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে ২০২১ সালের ১ মার্চ। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে জামালপুর সদর উপজেলায় ৩০০ একর জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি খাস জমি প্রায় ৮৯ একর এবং বাকিটা হচ্ছে ব্যক্তিমালিকানাধীন।

এ জমির মূল্য ধরা হয়েছে ৫৮১ কোটি টাকা এবং ভূমি উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ১০৬ কোটি টাকা। অর্থ বিভাগে পাঠানো ডিও লেটারে বলা হয়েছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৩০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন চলছে। এর মধ্যে চলতি বছরের জুন মাসে ২টি প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।

অসমাপ্ত বাকি ২৮টি প্রকল্প আগামী অর্থবছরের নতুন এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এসব প্রকল্প ছাড়াও চলতি অর্থবছরের (২০১৮-১৯) আরও চারটি নতুন প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ফলে আগামী অর্থবছরে এডিপিতে নতুন প্রকল্পের সংখ্যা দাঁড়াবে ৩২টি।

ডিও লেটারে আরও বলা হয়, এ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পগুলো সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন ও শেখ হাসিনা নকশি পল্লী জামালপুর প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ ও ভূমি উন্নয়ন কাজ শেষ করতে হবে। এজন্য আগামী অর্থবছরের বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় সীমা ৭০০ কোটি টাকাসহ মোট বাজেট ১ হাজার ২৮১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়ার সুপারিশ করা হয়।

প্রসঙ্গত বর্তমানে পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশনের দেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪২৪ কোটি টাকা। এ সময়ের মধ্যে মিলগুলো কাঁচা পাট কিনেছে ৪৭ হাজার ৮২১ টন।

এ সময় পাট কেনার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯৭ হাজার ৭২৪ টন। একই সময়ে পাটজাত পণ্য উৎপাদন করেছে ৫২ হাজার ৩৭২ কোটি টাকার। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মিলগুলোর লোকসানের পরিমাণ কমিয়ে আনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১৪টি পাটকল পিপিপির মাধ্যমে পরিচালনার একটি পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here