Home Apparel নারী গার্মেন্ট কর্মীদের সুস্বাস্থ্য জরুরি

নারী গার্মেন্ট কর্মীদের সুস্বাস্থ্য জরুরি

দেশের ৪ হাজার গার্মেন্টের মধ্যে ১০টি গার্মেন্টের কর্মীদের স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনা হয়েছে। দেশের ৮০.৬% নারী গার্মেন্টকর্মী বিবাহিত। তারা নিজেদের স্বাস্থ্য অধিকার সম্পর্কে অবগত নন। গাজীপুর-আশুলিয়ার গার্মেন্টগুলোর পাশে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কয়েকটি ক্লিনিক তৈরির উদ্যোগ নিলে গার্মেন্টকর্মীরা কর্মক্ষেত্রের পাশেই চিকিৎসাসেবা পাবেন। গার্মেন্টকর্মীদের স্বাস্থ্যসেবাকে হাতের নাগালে এনে দিতে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। পাওয়ার প্লাসের আওতায় গার্মেন্টকর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য, প্রজননস্বাস্থ্য, গার্মেন্টে তারা যাতে কোনোরকমে হয়রানির শিকার হলে জানাতে পারেন এজন্য কমিটি গঠন, তাদের মানসিক সমস্যা দূর করতে কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা, কর্মক্ষেত্রে সুস্থ পরিবেশে কাজের সুযোগ করে দেয়া। হেলথ ইন্স্যুরেন্স প্লাসের আওতায় গার্মেন্টকর্মীদের স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি, সংস্থা থেকে স্বাস্থ্যসেবাগুলোতে সহযোগিতা এবং তাদের সাধ্যের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ করে দেয়া, সাসটেইনেবল স্বাস্থ্যসেবা পদ্ধতি চালু করা, এর ইতিবাচক প্রভাবে গার্মেন্টকর্মীদের সুস্বাস্থ্য বজায় থাকবে এবং উৎপাদন বাড়বে। মিনিস্ট্র–রাল হাইজিন ম্যানেজমেন্টের আওতায় গার্মেন্টকর্মীদের সেনেটারি প্যাড সরবরাহ করা। এটা ব্যবহার না করলে তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি কতটা সে সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা। সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে নেদারল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন এসএনভি আয়োজিত গার্মেন্ট সেক্টরে গার্মেন্টকর্মীদের প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্ব বিষয়ক সাংবাদিকদের সঙ্গে এক কর্মশালায় এসএনভি’র টিম লিডার ফারহাথিবা রাহাত খান এ কথা বলেন। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাজনীন আখতার বলেন, গার্মেন্টকর্মীদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো সুস্থ থাকতে হবে। তাদের প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়ক সেবা প্রদানে ১০টি প্যাকেজ তৈরি করা যায়। তার শরীর সে কি করতে চায়? তাদের নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিজেকে সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার থাকতে হবে। গার্মেন্টকর্মীদের মাসিকের হাইজিনের কারণে উৎপাদন কমছে। কারণ মাত্র শতকরা ২১ ভাগ গার্মেন্টকর্মী স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ আব্দুস সালাম জানান, পরিবার পরিকল্পনার মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে প্রজনন স্বাস্থ্যসেবাকে আরও জোরদার করতে হবে। ১৮ (১) ধারায় স্বাস্থ্যের সঙ্গে পুষ্টির কথা উল্লেখ রয়েছে। ২০১১ সালের স্বাস্থ্য নীতিতে ৬ নম্বর লক্ষ্যে ১৬টি মূলনীতি রয়েছে। এই মূল নীতিগুলোর মধ্যে জাতি, ধর্ম, গোত্র, আইন, লিঙ্গ, প্রতিবন্ধী ভৌগোলিক অবস্থান নির্বিশেষে বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের বিশেষ করে শিশু-নারী সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করে সামাজিক ন্যায় বিচার ও সমতার ভিত্তিতে তাদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা ভোগ করতে প্রচার মাধ্যমের সাহায্যে সচেতন এবং সক্ষম করে তোলা ও সুস্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত জীবনযাত্রা তাদের আচরণ পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়া। পলিসি মেকার থেকে সবার এটি দরকার হবে। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন একাত্তর টেলিভিশনের সিনিয়র সাংবাদিক কাউসার মাহমুদ ও এসএনভি’র সিনিয়র প্রোজেক্ট অফিসার নিনাদ আফরিন জোহরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here