Home Apparel অর্থপাচার নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানাল বিজিএমইএ

অর্থপাচার নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানাল বিজিএমইএ

সম্প্রতি রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানার মাধ্যমে বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ তুলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশতি হয়। মঙ্গলবার (২ ফেব্রুয়ারি) এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে গণমাধ্যমে একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন- বিজিএমইএ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি দেশের শীর্ষ স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যমে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচার সংক্রান্ত সংবাদ প্রচার করে। সংবাদে উল্লেখিত অভিযোগের সত্যতা, সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতা ও তা কতটা হালনাগাদ সে বিষয়ে প্রশ্ন ও স্পষ্টকরণের যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে বলে দাবি করেছে বিজিএমইএ। প্রকাশিত ওই সংবাদ আমলে যেসব যুক্তি দিয়েছে বিজিএমইএ তা তুলে ধরা হল:

প্রথম
প্রকাশিত প্রতিবেদনে ৬৩টি রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক দুর্নীতির তদন্ত কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্টভাবে শুধু আল-মুসলিম গ্রুপের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, প্রতিষ্ঠানটি ১৭৫ কোটি টাকা পাচার করেছে। প্রতিবেদনের বিষয়টি তদন্তাধীন উল্লেখ করা হলেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ রকম স্পর্শকাতর বিষয়ে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করে প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়টি সাংবাদিকতার শিষ্টাচার লংঘন বলে আমরা মনে করি। সৃষ্ট বিভ্রান্তির ফলে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়া এবং ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়গুলো সংবাদ মাধ্যমের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

দ্বিতীয়
বিগত ২৪ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশনের সম্মানিত মহাপরিচালকের স্বাক্ষরিত একটি পত্রে আল-মুসলিম গ্রুপের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অনুসন্ধানে প্রমাণিত না হওয়ায় কমিশন তা পরিসমাপ্ত করেছে বলে অবহিত করেছেন। অতএব ডিসেম্বর মাসে যেই অভিযোগটির পরিসমাপ্তি ঘটেছে সেই অভিযোগে এমন সংবাদ পরিবেশন গণমাধ্যমগুলোর অজ্ঞতা বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

তৃতীয়
শীর্ষস্থানীয় একটি ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশিত ওয়াশিংটন ভিত্তিক Global Financial Integrity (GFI) এর ৩ মার্চ ২০২০ তারিখে প্রকাশিত “Trade-Related Illicit Financial Flows from 135 Developing Countries: 2008-2017” প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে। অথচ ওই প্রতিবেদনে আল-মুসলিম গ্রুপ, পোশাকখাত কিংবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম বা তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এ রকম একটি প্রতিবেদনকে সুনির্দিষ্ট একটি খাত বা প্রতিষ্ঠানের প্রসঙ্গে টেনে এনে জনমনে একটি নেতিবাচক ধারণা বদ্ধমূল করার প্রচেষ্টার উদ্দেশ্য কী হতে পারে তা একটি বড় প্রশ্ন হয়ে থেকে যায়।

চতুর্থ
প্রকাশিত সংবাদে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক ২৯টি বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য কর ফাঁকির বিষয়ে অনুসন্ধানের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে এটিও উল্লেখ করা হয়েছে যে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সংশ্লিষ্ট নথি ও ডকুমেন্ট যাচাই বাছাই করে বন্ড সুবিধা অপব্যবহারের কোনো তথ্য পায়নি। তাহলে এ সংবাদ প্রতিবেদনে বন্ড সুবিধা অপব্যবহারের বিষয়টি কোন প্রাসঙ্গিকতায় টেনে আনা হলো এবং বিভিন্ন সময়ে মীমাংসিত অপরাপর বিষয়ের অবতারণা কেন, এ বিষয়গুলো আমাদের বোধগম্য নয়।

পঞ্চম
সংবাদ পরিবেশনের পূর্বে আনীত অভিযোগের সতত্য প্রমাণ সাংবাদিকতার মূল্যবোধের মৌলিক একটি অংশ। অথচ আনীত অভিযোগের বিষয়টিতে বাংলাদেশ ব্যাংক কিংবা ওই পোশাক প্রতিষ্ঠানটির লিয়েন ব্যাংকের কাছে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম, আর্থিক লেনদেনের তথ্য, রপ্তানিমূল্য অপ্রত্যাবাসিত আছে কিনা, ইত্যাদি বিষয়ে সত্যতা যাচাই করার উদ্যোগ নেয়া যেত (এবং এখনও করা যায়), যা না করেই একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপবাদ ও অপপ্রচার করা হয়েছে। এর ফলে শুধু ওই প্রতিষ্ঠানই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বরং এর ফলে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি একটি ব্যবসা এবং শ্রমিক বান্ধব প্রতিষ্ঠান।

আল-মুসলিম গ্রুপের অন্তর্গত প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৮ হাজার (আঠার হাজার) শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তা নিয়োজিত আছে। প্রতিষ্ঠানটি রপ্তানিতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে বিগত ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরে স্বর্ণ, ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে স্বর্ণ এবং ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে সিলভার পদক পেয়েছে।

ষষ্ঠ
আল-মুসলিম গ্রুপ শুধু সুনামের সঙ্গে বিগত তিন দশক যাবত তার ব্যবসা পরিচালনা করছে তাই নয়, বরং প্রতিষ্ঠানটি তার ব্যতিক্রমী সামাজিক উদ্যোগ ও পদক্ষেপের কারণেও বিভিন্ন সময় প্রশংসিত হযেছে। 

রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় চাপা পড়া আহত ও নিহতদের উদ্ধার কার্যক্রমে প্রতিষ্ঠানটির ২৬০ জন শ্রমিক ও কর্মচারী স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন, যা প্রশংসিত হয়। শুধু তাই নয়, করোনা মহামারির সময় শ্রমিকদের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে তারা পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা আইসোলেশন সেন্টার এবং ১২০ শয্যা বিশিষ্ট একটি কোয়ারেনটাইন সেন্টার স্থাপন করেছে। এ সব উদ্যোগ নিশ্চয়ই প্রশংসা ও সম্মানের দাবি রাখে।

সপ্তম
শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ মহামারির ফলে শিল্পে যে ক্ষতি ও ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে তা কাটিয়ে টিকে থাকার সংগ্রামে যখন আমাদের প্রতিটি শিল্প প্রতিষ্ঠান অবিরত লড়াই করে যাচ্ছে সেই সময়টিতে কিছু গণমাধ্যমে হালনাগাদ করা হয়নি এমন সংবাদ শিল্প, অর্থনীতি তথা জাতীর জন্য মঙ্গলজনক হতে পারে না।

সংগঠনটি গণমাধ্যমে পাঠানো ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলে, অর্থপাচার বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদ বিষয়ে গণমাধ্যম যেন স্পর্শকাতর বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পূর্বে সত্যতা যাচাই ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে নেয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here