Home বাংলা নিউজ এই ঈদের পোশাক

এই ঈদের পোশাক

প্রতিবারই নতুন থিম আর মোটিফে ঈদের পোশাক আনে ফ্যাশন হাউসগুলো। থাকে আবহাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে পোশাক আরামদায়ক করার চেষ্টাও। বৃষ্টি আর গরমের মধ্যে পড়েছে এবার ঈদ। তাই ঈদের পোশাকেও থাকছে এ সময়ের উপযোগী ধারা।

সুতি কাপড় গরমে আরামদায়ক। কিন্তু বৃষ্টিতে ভিজলে শুকাতে একটু বেশি সময় নেয়। তাই সুতি থেকে শুরু করে সিল্ক, হাফসিল্ক, জর্জেট, সিকোয়েন্স, বলাকা, অ্যান্ডি, লিনেন, মসলিন, শিফনসহ অন্যান্য ম্যাটেরিয়ালেও তৈরি হয়েছে ঈদের পোশাক। রঙ বাংলাদেশের স্বত্বাধিকারী সৌমিক দাস বললেন, ‘ঈদুল ফিতরের ওরিয়েন্টাল ধারাটাকে এবারও বজায় রেখেছি আমরা। ধারা এক থাকলেও নতুন আঙ্গিকে সাজানো হয়েছে এই ঈদের পোশাক। বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় আবহকে গুরুত্ব দিয়ে পোশাকের নকশা করা হয়েছে। পাশাপাশি এখনকার আবহাওয়া ও আন্তর্জাতিক ধারাও গুরুত্ব পেয়েছে।’

যেকোনো উৎসবের পোশাকে রং আলাদা গুরুত্ব পায় ডিজাইনারদের কাছে। কারণ পোশাকের রং আমাদের মনের ওপর প্রভাব ফেলে। এরই মধ্যে ফ্যাশন হাউসের শোরুমগুলোতে নতুন পোশাকের দেখা মিলতে শুরু করছে। শুরু হয়েছে আলোকসজ্জাও। এতে পোশাকের রং যেন আরো বেশি ফুটে উঠছে। এবারকার ঈদের পোশাকে মূল রঙের মধ্যে রয়েছে অ্যাশ, লাইট ব্রাউন, মেরুন, সাদা, কালো, ক্রিম, মিন্ট, লাল, পিংক, সবুজ, নীল, গ্রিন পিচ ও সি গ্রিন। পোশাকে সহরঙের মধ্যে রয়েছে ম্যাজেন্টা, স্কাই ব্লু ও মাস্টার্ড।

সারা লাইফস্টাইল প্রতিবারের মতো এই ঈদেও বর্ণিল পোশাক নিয়ে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র ডিজাইনার মো. শামীম বললেন, ‘উৎসবের পোশাকে সব সময়ই বাড়তি একটা মনোযোগ থাকে আমাদের। পোশাকে নতুনত্ব আনার পাশাপাশি আরামের দিকটাও বেশি দেখা হয়। এজন্য আরামদায়ক কাপড় ও কাটিংয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পোশাকে নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে স্ক্রিনপ্রিন্ট, ব্লকপ্রিন্ট, হাতের কাজ, ডাই, কারচুপিসহ বিভিন্ন ভ্যালু অ্যাডেড মিডিয়ার ব্যবহারে।’

উৎসবে কয়েক বছর ধরেই ম্যাচিং পোশাকের প্রতি আলাদা একটা আগ্রহ থাকে ক্রেতাদের। স্বামী-স্ত্রী, বাবা-ছেলে, মা-মেয়েসহ অনেক সময় পরিবারের সব সদস্য একই রকম পোশাক পরে বেড়াতে ভালোবাসেন। তাদের জন্যও বিশ্বরঙ, রঙ বাংলাদেশ, সারা লাইফস্টাইল, কে ক্রাফট, অঞ্জন’স, টুয়েলভসহ বিভিন্ন হাউস এনেছে ম্যাচিং পোশাক। শাড়ি, সালোয়ার, পাঞ্জাবি, শার্ট, টি-শার্ট পাওয়া যাবে ম্যাচিং পোশাকের মধ্যে।

ঈদে মেয়েদের শাড়িতেও এসেছে নতুনত্ব। জরি, জারদৌসি, চুমকির ব্যবহারে শাড়িতে অভিজাত ভাব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বরাবরের মতোই ঈদের শাড়ির নকশায় উজ্জ্বল রং প্রাধান্য পেয়েছে। মেয়েদের কাফতান, গাউন ও হাওয়াই পোশাকের ট্রেন্ডও চলমান। পরতে আরাম, ক্যারিংয়ে সুবিধা বলে এবার ঈদেও এগিয়ে থাকবে এমন পোশাক। সালোয়ার, টপস, কুর্তির হাতা ও গলায় ফ্রিল বা কুঁচি ব্যবহারে নতুনত্ব দেখা যাচ্ছে। নানা ছাঁটের পালাজ্জোও এবার ঈদ ফ্যাশনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। প্যান্টের মধ্যে টিউলিপ ও এক ছাঁটে তৈরি সোজা বা স্ট্রেট প্যান্ট বেশি দেখা যাচ্ছে।

গরমের কারণে সাদা রঙের পোশাকের চাহিদাও থাকছে এবার। ছেলেদের সাদা শার্টে প্রিন্টের সাহায্যে ফ্লোরাল, হাওয়াইসহ নানা মোটিফ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সঙ্গে ছেলেদের প্যান্টে চিনো কাট, সিøম কাট ও স্ট্রেট কাট বেশি দেখা যাচ্ছে। পাঞ্জাবি ঈদের ট্রেন্ডে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে। ঈদের নামাজে সাদা পাঞ্জাবির প্রতিই বেশি আগ্রহ তরুণদের। তবে বিকালের বা রাতের জন্য নকশা করা পাঞ্জাবির সঙ্গে ভারী কাজের কটির চল খুব। এবারও এই ধারায় ব্যতিক্রম নেই। ওটুর স্বত্বাধিকারী শারমীন আহমেদ বললেন, ‘এখন পোশাকে ফ্যাশনের সঙ্গে আরামও পেতে চায় নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা। তাই আধুনিক ট্রেন্ড বজায় রাখাতে পাঞ্জাবিতে কটি বেশ চলছে। পোশাকে ফিরেছে জরি, চুমকির কারুকাজ। ছেলেদেরে শার্টে হাওয়াই, ফ্লোরাল প্রিন্ট আর প্যান্টের কাটে চিনোস, সিøম এবারও চাহিদার শীর্ষে। পাশাপাশি আরামদায়ক কাপড়কে পোশাকে গুরুত্ব দিই আমরা। এবারও আধুনিক ও আরামদায়ক কাপড়ে ছেলেদের পাঞ্জাবি, শার্ট, প্যান্ট, কাবুলি, শেরওয়ানি, মেয়েদের কাফতান, কামিজ, ফতুয়া ও গাউন এনেছি।’

দেশি ও বিদেশি ডিজাইনের মিশেল পোশাকও বেশ জনপ্রিয় এখন। মিক্সড প্যাটার্ন ও ট্রপিক্যাল মোটিফে লম্বা গাউন এবং ঢিলে খাটো টপও এনেছে ভিন্ন ঢঙেয়। সব মিলিয়ে ঈদের পোশাকে ফ্যাশনের সঙ্গে আরামে বেশি জোর দিয়েছেন ডিজাইনাররা।

রোদ হোক কিংবা বৃষ্টি- পোশাকটি যেন ঠিকঠাক উৎসবের আমেজ এনে দেয়, সে বিষয়ে সচেষ্ট ফ্যাশন হাউসগুলো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here