Home বাংলা নিউজ ওভেনে ডুবছে রপ্তানি

ওভেনে ডুবছে রপ্তানি

শুরু থেকে তৈরি পোশাকের মধ্যে ওভেন পণ্যই (শার্ট, প্যান্ট, জ্যাকেটসহ শৌখিন আইটেম) ছিল আমাদের প্রধান রপ্তানি খাত। ২০০৭ সালে নিট খাত (টি-শার্ট, সোয়েটার, আন্ডার গার্মেন্টস) দখল নেয় রপ্তানি বাজার। ২০১২ সালে আবার জাতীয় রপ্তানিতে ওভেন খাত প্রাধান্য বিস্তার করে। তবে ২০২০ সালে এসে আবারও রপ্তানিতে ওভেন খাত আধিপত্য হারায়। ২০১৯ সালের জুলাই থেকে টানা ১৮ মাস লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করতে পারেনি ওভেন। বিশ্বব্যাপী করোনার প্রভাবে শৌখিন পণ্যের চেয়ে নিত্যব্যবহার্য পণ্যে ঝোঁক এবং কাঁচামালে আমদানি নির্ভরতার কারণে রপ্তানিতে দেশের ওভেন পণ্য দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বিজিএমইএ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত গত সাত মাসে এক হাজার ৮৪০ কোটি ৭৭ লাখ ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩.৪৪ শতাংশ কম। নিট খাতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩.৮৪ শতাংশ বেশি অর্জিত হলেও ওভেনে ব্যর্থতার (লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০.৮৫ শতাংশ কম) কারণে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি তৈরি পোশাক শিল্পের। এর মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা সবচেয়ে কম অর্জিত হয়েছে গত ডিসেম্বরে। এই মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৮.০৭ শতাংশ কম রপ্তানি হয়েছে ওভেন পণ্য। তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, শার্ট, প্যান্ট, জ্যাকেটসহ ফ্যাশনেবল আইটেমের ওভেন পণ্য সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খেয়েছে শীতপ্রধান দেশগুলোতে। বিশেষ করে প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্রে এই ধাক্কা লেগেছে সবচেয়ে বেশি। জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত চলতি অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে ওভেন পণ্য রপ্তানি হয়েছে ২২৫ কোটি ডলার। অথচ করোনা সংক্রমণ ব্যাপক বিস্তারের আগে গত অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ওভেনের প্রধান বাজারটিতে রপ্তানি হয়েছিল ২৫৮ কোটি ডলারের পণ্য। অর্থাৎ শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সাত মাসে ওভেন রপ্তানি কমেছে প্রায় দুই হাজার ৮০০ কোটি টাকা। অথচ একই সময়ে নিট পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ২৭.৪ শতাংশ। আরেক শীতপ্রধান দেশ তৈরি পোশাক রপ্তানি তৃতীয় বৃহত্তম গন্তব্য ইংল্যান্ডে নিটপণ্য রপ্তানি ৬.৬১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির বিপরীতে ওভেনে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পিছিয়েছে ২১.১৭ শতাংশ। একই অবস্থা কানাডা ও নেদারল্যান্ডসের মতো শীতপ্রধান দেশে। মূলত : লিড টাইমে পিছিয়ে থাকার কারণে বাংলাদেশ ক্রমেই ওভেন পণ্য রপ্তানিতে পিছিয়ে পড়ছে বলে মনে করেন ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম, চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের সভাপতি ও বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি এস এম আবু তৈয়ব। কারণ হিসেবে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশে প্রচুর পরিমাণে নিট ফ্যাব্রিক উৎপাদন হয়। প্রয়োজনীয় বাকি নিট ফ্যাব্রিক আমরা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে অল্প সময়ে নিয়ে আসতে পারি। কিন্তু ওভেনের ক্ষেত্রে সেটার সুযোগ নেই। ওভেন ফ্যাব্রিকের প্রায় ৮০ শতাংশই আসে চীন থেকে।’ লিড টাইমের ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক শিল্পে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ চীন, ভিয়েতনাম কিংবা কম্বোডিয়া এক মাস এগিয়ে থাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চীন থেকে শ্রীলঙ্কার কলম্বো সমুদ্রবন্দর হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে কাঁচামাল এনে সেই পণ্য উৎপাদন করে আবার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কলম্বো কিংবা সিঙ্গাপুর বন্দর হয়ে ইউরোপ-আমেরিকার গন্তব্যে পাঠাতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগে। আগে ইউরোপ-আমেরিকার বায়াররা হাতে সময় রেখে অর্ডার দিলেও দুই বছর ধরে ভিন্ন প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ কারণে ওভেন খাতে অর্ডার হারাতে হচ্ছে।’ এ সমস্যা মোকাবেলায় অটোমেশনের পাশাপাশি নিজেদের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে বলে মনে করেন এই ব্যবসায়ী নেতা। কাপড়ের দখল থাকার কারণেই দেশের নিট রপ্তানি দিন দিন বেড়েই চলেছে বলে মনে করেন বিজিএমইএর আরেক প্রথম সহসভাপতি ও ইষ্টার্ণ অ্যাপারেলস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাছির উদ্দিন চৌধুরী। বিজিএমইএ পরিচালক মোহাম্মদ আতিক বলেন, ‘মানুষ এখন সামাজিক অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলছে। ফলে ফ্যাশনেবল আইটেমের চেয়ে টি-শার্ট, সোয়েটার, আন্ডার গার্মেন্টস কেনাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে চাহিদা কমায় ওভেন রপ্তানি কমেছে বেশি।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here