Home Apparel বস্ত্র আইনের বিধিমালায় শিল্প মালিকদের আপত্তি

বস্ত্র আইনের বিধিমালায় শিল্প মালিকদের আপত্তি

দেশের বস্ত্র ও পোশাক শিল্পের সব প্রতিষ্ঠানকে পোষক কর্তৃপক্ষ বস্ত্র অধিদপ্তরের আওতায় নিবন্ধন নিতে হবে। এ বাধ্যবাধকতা তৈরি হয় বস্ত্র আইন. ২০১৮ প্রণয়নের মাধ্যমে। আইনটির যথাযথ বাস্তবায়নে সম্প্রতি ‘বস্ত্র (শিল্প নিবন্ধন) বিধিমালা ২০১৯’-এর খসড়া তৈরি করা হয়েছে। খসড়ায় শিল্প নিবন্ধন সনদপ্রাপ্তির জন্য এক ডজনেরও বেশি শর্ত পরিপালন করতে হবে। এ শর্ত ও বিধিমালার বেশকিছু ধারা নিয়ে আপত্তি করেছে, সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিনিধিরা।

গত বছর বস্ত্র আইন, ২০১৮ প্রণয়ন করে সরকার। এ আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়নে সম্প্রতি তৈরি করা হয় বিধিমালার খসড়া। খসড়ায় বস্ত্র অধিদপ্তরের অধীনে শিল্প নিবন্ধন পেতে হলে প্রায় ১৫টি শর্ত পরিপালনের দিকনির্দেশনা দেয়া হয়।

বস্ত্র শিল্পের প্রস্তাবিত নিবন্ধনের আবেদন পদ্ধতিতে ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত আর্থিক সচ্ছলতার প্রত্যয়নপত্র ও স্থানীয় বা বিদেশী ঋণ থাকলে ঋণ মঞ্জুরিপত্রের অনুলিপি দাখিল করতে বলা হয়েছে। দাখিল করতে বলা হয়েছে পরিবেশ ছাড়পত্র। নিবন্ধনপত্রের সনদ প্রদান পদ্ধতিতে পরিদর্শন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ‘উপযুক্ত মনে করা হলে’ নিবন্ধন সনদপ্রাপ্তির দিকনির্দেশনা আছে। বলা হয়েছে অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম যথাযথ স্থানে ও কার্যকর অবস্থায় স্থাপন করার কথাও। অধিদপ্তর কারখানা চলাকালে যেকোনো সময় কারখানা পরিদর্শন করতে পারবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিধিতে। শিল্প-কারখানায় স্বল্প খরচে খাবারের ক্যান্টিন সুবিধা রাখার কথাও উল্লেখ আছে বিধিতে। এছাড়া বস্ত্র অধিদপ্তরের আওতায় ওয়ানস্টপ সার্ভিস বিধিতে বস্ত্র শিল্প স্থাপনে অনাপত্তিপত্রসহ শিল্প আমদানি নিবন্ধন সনদ, মেশিন ছাড়করণের সুপারিশ, আমদানি অনুমোদন জারির সুপারিশসহ বেশকিছু বিষয় নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে বস্ত্র শিল্প সংশ্লিষ্টদের।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) সূত্রমতে, আইনের আলোকে বিধিমালার খসড়াটির বেশকিছু ধারা অসংগতিপূর্ণ বলে মত রয়েছে শিল্প মালিকদের, যা লিখিতভাবে জানানোর পাশাপাশি বিধির বিষয়টি অংশীজনের সঙ্গে আসন্ন আলোচনা সভায় উপস্থাপন করা হবে।

বিটিএমএ বলছে, বস্ত্র শিল্পের প্রস্তাবিত নিবন্ধনের আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংক সলভেন্সি সম্পর্কিত সনদ দাখিলের সম্পর্ক কী, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রয়োজন। পাশাপাশি নিবন্ধনের আবেদনের সঙ্গে বিদেশী ঋণ থাকলে তার মঞ্জুরিপত্র দাখিল করতে বলা হয়েছে। এ বিষয়টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের একান্তই নিজস্ব এবং গোপনীয় বিধায় এ ধারাটি বাদ দেয়া প্রয়োজন।

পরিবেশ ছাড়পত্রের বিষয়ে বিটিএমএ বলছে স্পিনিং, উইভিং ও নিট ফ্যাব্রিক মিল কোনো ধরনের ওয়েট প্রসেস করে না। ফলে মিলের দ্বারা পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই। আর আশঙ্কা না থাকায় মিলগুলোকে নিবন্ধনের আবেদন দাখিলের সময় পরিবেশ সনদ দাখিল থেকে অব্যাহতি দেয়া অত্যাবশ্যক।

নিবন্ধন সনদ প্রদান পদ্ধতিতে কারখানা পরিদর্শন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ‘উপযুক্ত মনে করিলে’ উল্লেখ থাকার বিষয়ে বিটিএমএ বলছে এ বাক্যটি বাদ দেয়া প্রয়োজন। তাদের দাবি, এটি উল্লেখ থাকলে নিবন্ধকের স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ থাকবে। অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম যথাযথ স্থানে কার্যকর অবস্থায় স্থাপন করতে হবে এবং যেকোনো দুর্ঘটনার জন্য মালিক পক্ষ দায়ী থাকলে—এমন বিধিকে স্বেচ্ছাচারমূলক এবং একপেশে বলে মনে করছে বিটিএমএ।

বিটিএমএ বলছে, দুর্ঘটনা যেকোনোভাবে হতে পারে। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের তদন্ত না করে সরাসরি সংশ্লিষ্ট মিলকে দায়ী এবং দায়দায়িত্ব মিল কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে, এ বিষয়টি প্রচলিত আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কিনা তা বিবেচনার দাবি রাখে। কারখানা চলাকালে যেকোনো সময় অধিদপ্তরের কর্মচারী কারখানা পরিদর্শন করতে পারবে—এমন বিধি কারখানা পরিচালনায় বিঘ্ন এবং অধিদপ্তরের কর্মীদের স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ দেবে। তবে কারখানা পরিদর্শনে কোনো মহলের আপত্তি থাকার কথা নয় বলে মনে করছে সংগঠন।

বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, আইনের বিধিমালার বেশকিছু বিষয় নিয়ে আমাদের মত রয়েছে। সেগুলো লিখিতভাবে জানানোর পাশাপাশি আলোচনার মাধ্যমে বিধিমালাকে সংগতিপূর্ণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে প্রত্যাশা করছি।

বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিলীপ কুমার সাহা বলেন, আইনটি নতুন করা হয়েছে, যা পরিপালনে বিধির খসড়া তৈরি করা হয়েছে। বিধির বিভিন্ন দিক নিয়ে অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে এটি চূড়ান্ত করা হবে।

বস্ত্র শিল্পের সার্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়েই সরকার বস্ত্র শিল্প আইন, ২০১৮ প্রণয়ন করে। নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি হয় ওই আইনের মাধ্যমে। আইনটির মাধ্যমে বস্ত্র শিল্পের সংজ্ঞাও নির্ধারণ হয়েছে। সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, বস্ত্র শিল্প বলতে তুলা, সুতা, ফ্যাব্রিকস, বস্ত্র বা তৈরি পোশাক, বস্ত্র খাতের মূলধনি যন্ত্রপাতি, কম্পোজিট, কার্যক্রম, অ্যালাইড টেক্সটাইল ও প্যাকেজিং উৎপাদন উপাদান, বস্ত্র পণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, প্যাকেজিং, গুদামজাত, আমদানি ও রফতানি, বিক্রয় ও বাজারজাত, বায়িং হাউজসহ সব কার্যক্রম এবং এ-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনাকারী সব প্রতিষ্ঠান, সংস্থা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here