Home বাংলা নিউজ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে ১৪২ কারখানায়

উৎপাদন বন্ধ রয়েছে ১৪২ কারখানায়

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনার প্রকোপ কিছুটা কমে এসেছে। করোনাপূর্ব অবস্থায় না ফিরলেও বাংলাদেশের পণ্য বেশি যায়- এমন দেশগুলোর পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। লকডাউন, জরুরি অবস্থার মতো কঠোর বিধিনিষেধ নেই। এই সুযোগে তৈরি পোশাকের চাহিদা বেড়েছে। বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের হাতে রপ্তানি আদেশ রয়েছে। তবে এর বিপরীত চিত্রও আছে। এর মধ্যেও কিছু কারখানায় উৎপাদন চলছে না। লকডাউনের মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থায় তৈরি পোশাকসহ রপ্তানিমুখী কারখানা চালুর পর এমন পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে। বন্ধ থাকা কারখানার মধ্যে লকডাউনের মধ্যেও বিশেষ সুবিধায় চালু করতে পারেনি এমন কারখানাও থাকতে পারে।\হউদ্যোক্তাদের অবিরত দাবির মুখে লকডাউনের মধ্যেও পোশাকসহ রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা খুলে দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে সরকার। ঈদের ছুটি এবং লকডাউনে টানা তেরো দিন বন্ধ থাকার পর গত ১ আগস্ট এসব কারখানা খুলে দেওয়া হয়েছে। হাতে রপ্তানি আদেশের চাপ এবং ক্রেতা হারানোর শঙ্কা- এই বাস্তবতার মধ্যেও বন্ধ রয়েছে ১৪২ পোশাক কারখানা। প্রায় সব কারখানাই তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএর সদস্য।\হগতকাল বৃহস্পতিবার শিল্প পুলিশের তৈরি প্রতিবেদনে এমন তথ্য রয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বন্ধ ও খোলা রাখা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, বিজিএমইএর সদস্য মোট ১১৫টি কারখানা গতকালও বন্ধ ছিল। বিকেএমইএর বন্ধ কারখানার সংখ্যা ছিল ২২টি। এর বাইরে ইপিজেডে বন্ধ রয়েছে ৫টি কারখানা। বন্ধ কারখানার মধ্যে সর্বাধিক ৪৭টি গাজীপুরে। এ জেলাতেই সবচেয়ে বেশি পোশাক কারখানা রয়েছে। জেলায় বিজিএমইএর সদস্য কারখানার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ৭৭৪টি। ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও খুলনায় ছয়টি ইউনিটের মাধ্যমে নিরাপত্তা তদারক করে থাকে শিল্প পুলিশ।\হউদ্যোক্তাদের বার বার অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ বিবেচনায় কারখানা খুলে দেওয়ার মধ্যেও কিছু কারখানা বন্ধ থাকার কারণ জানতে চাইলে বিজিএমইএর সহসভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম সমকালকে বলেন, সব কারখানার সামর্থ্য এক রকম নয়। রপ্তানি আদেশের নজিরবিহীন প্রবাহের মধ্যেও অনেক কারখানার হাতে কাজ নেই। বন্ধ কারখানার মধ্যে সাব-কন্ট্রাক্ট বা ঠিকা কাজ করে এ ধরনের কারখানাই বেশি। তিনি বলেন, বড় কারখানা যখন রপ্তানি আদেশের পোশাক প্রস্তুত করে সামাল দিতে পারে না, তখন অনুমোদিত সাব-কন্ট্রাক্ট কারখানায় কাজ দেওয়া হয়। লকডাউনে কারখানা বন্ধ থাকার কারণে বড় কারখানার উৎপাদন এখনও স্বাভাবিক পর্যায়ে আসেনি। সে কারণে সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করে এমন কারখানায় কাজ কম। এ কারণে কিছু কারখানা বন্ধ রয়েছে।\হউদ্যোক্তাদের কেউ কেউ শিল্প পুলিশের এই তথ্যকে শতভাগ সত্য মনে করেন না। তাদের একজন বিকেএমইএর পরিচালক শামীম ফজলে এহসান সমকালকে বলেন, কিছু কারখানা বন্ধ আছে ঠিক, তবে এত বেশি সংখ্যক কারখানা এ মুহূর্তে বন্ধ থাকার কথা নয়। তবে শিল্প পুলিশের একজন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, তারা পরিদর্শনের ভিত্তিতে এই তালিকা করেছেন। কিছু কারখানায় উৎপাদন বন্ধ। এর কারণ সম্পর্কে তারা ওয়াকিবহাল নন।\হসরকারের আগের ঘোষণা অনুযায়ী, চলমান লকডাউনে গতকাল ৫ আগস্ট পর্যন্ত পোশাকসহ সব ধরনের শিল্পকারখানা বন্ধ থাকার কথা। এ কারণে অনেক কারখানা ঈদের ছুটির আগেই ৫ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করে। বিকেএমইএর পক্ষ থেকে আলাদা করে সদস্য কারখানাগুলোকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত কারখানা বন্ধ রাখতে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। এ কারণেও কিছু কারখানা বন্ধ থাকতে পারে বলে মনে করছে বিকেএমইএ।\হজানতে চাইলে বিকেএমইএর প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সমকালকে বলেন, সরকারের আগের ঘোষণা অনুযায়ী ৫ আগস্ট পর্যন্ত কারখানা বন্ধ। ৬ আগস্ট শুক্রবার। সদস্য কারখানাগুলোকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ রাখার বার্তা পাঠিয়েছিলেন তারা। আবার গণপরিবহন বন্ধ থাকা এবং এক পর্যায়ে দুই দিনের জন্য শিথিল করা হলেও সংক্রমণের ব্যাপারে সতর্ক কিছু শ্রমিক কাজে ফিরতে রাজি হননি। মূলত, এ সব কারণে বিশেষ বিবেচনায় কারখানা খুলে দেওয়ার সরকারি ঘোষণার সুযোগ কিছু কারখানা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত এসব কারখানা বন্ধ ছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here